লালমনিরহাট জেলা বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রংপুর বিভাগের একটি প্রশাসনিক এলাকা।
উপরের-বাম থেকে ঘড়ির কাঁটার দিকে ছবিতে দেখা যায়: হারানো মসজিদ, তিনবিঘা করিডোর, কাকিনা জমিদার বাড়ি, তিস্তা ব্যারেজ ও তিস্তা রেল সেতু।
এ জেলার উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, দক্ষিণে রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলা, পূর্বে কুড়িগ্রাম এবং পশ্চিমে নীলফামারী জেলা অবস্থিত।
লালমনিরহাট নামের উৎপত্তি সম্পর্কে নানা মত প্রচলিত। কেউ বলেন, এখানে মাটির নিচে লাল রঙের পাথর পাওয়া যেত, তাই নাম হয় ‘লালমনি’। আবার কেউ বলেন, এলাকার লোকজন সম্মানস্বরূপ এই নামকরণ করেন। আরেকটি মত অনুযায়ী, ১৭৮৩ সালে লালমনি নামে এক নারী কৃষক নেতা নুরুলদিনের সঙ্গে ব্রিটিশ ও জমিদারদের বিরুদ্ধে লড়াই করে শহিদ হন। তাঁর স্মৃতিতেই জায়গাটির নাম হয় ‘লালমনি’ এবং পরে 'হাট' যুক্ত হয়ে ‘লালমনিরহাট’ হয়।
এই জেলায় বাংলাদেশের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর তালিকাভুক্ত নিদারিয়া মসজিদ অবস্থিত, যা লালমনিরহাট সদর উপজেলায়। এছাড়া ৬৯ হিজরি (৬৯০ খ্রিস্টাব্দ) সালের প্রাচীন হারানো মসজিদও এখানে রয়েছে, যার আনুষ্ঠানিক নাম সাহাবায়ে কেরাম জামে মসজিদ।
লালমনিরহাটের মোট জনসংখ্যা ১২,৫৬,০৯৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬,২৮,৭৯৯ এবং নারী ৬,২৭,৩০০ জন। জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১০০০ জন। বাসিন্দাদের অধিকাংশই মুসলিম এবং বাংলা ভাষাভাষী।
এই জেলা কৃষিপ্রধান। প্রায় ৭২.৭৮% মানুষ কৃষিজীবী, ১০.৪৯% ব্যবসায়ী, ৩.৪৬% শ্রমিক এবং ৪.৪৫% চাকরিজীবী।
পরিবহনের ক্ষেত্রে এখানে বাস, ট্রেন, সাইকেল, রিকশা, অটো রিকশা ও ভ্যান ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও একটি পুরনো বিমানবন্দরও রয়েছে।





0 Comments